রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ন
একবিংশ শতাব্দীর এক অস্বাভাবিক বাস্তবতা—অকালপক্ব চুল! বয়স বাড়লে চুল ফিকে হওয়াই স্বাভাবিক, তবে স্কুলগামী কিশোর-কিশোরীদের মাথায় সাদা চুল দেখা দেওয়া রীতিমতো দুশ্চিন্তার বিষয়। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে অকালপক্বতার সম্ভাব্য কারণ ও তার সমাধান।
গবেষণা বলছে, শতকরা ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে চুল পাকার কারণ জিনগত, বাকি ৫ শতাংশ শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘাটতি বা পুষ্টিহীনতার জন্য ঘটে। তবে ইদানীং এ সমস্যাটি এতটাই সাধারণ হয়ে উঠেছে যে, অভিভাবকরাও বিষয়টি মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। শুধু সন্তানের নয়, তার বন্ধুদের মধ্যেও পাকা চুলের প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এমনকি ৩০-এর কোঠায় পৌঁছানোর আগেই অনেকের মাথায় সাদা চুল দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, মূল কারণ জিনগত হলেও শরীরের বিভিন্ন ঘাটতি থেকেও এটি ঘটতে পারে।
চুলে পাক ধরার নির্দিষ্ট বয়স বলে কিছু নেই। জিনের বাহ্যিক প্রকাশ কেমন হবে, তা আগেভাগে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। যদিও গবেষণা বলছে, পুষ্টিহীনতা ও শরীরের অন্যান্য জটিলতা থেকেও চুল পেকে যেতে পারে।
২০১৯ সালে প্রকাশিত ‘ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ অ্যাপ্লায়েড রিসার্চ’-এর এক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের ১০.৬ শতাংশ স্কুলপড়ুয়ার মাথায় পাকা চুল রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, শিশুরা নিয়মিত জাঙ্ক ফুড খাওয়ার ফলে শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি হচ্ছে, যা চুল পাকার অন্যতম কারণ।
মানসিক চাপও অকালপক্বতার একটি বড় কারণ। এটি শরীরে আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ ও প্যান্টোথেনিক অ্যাসিডের অভাব ঘটাতে পারে, যার ফলে চুলের রং হারিয়ে যায়।
এছাড়া লিভারের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাও অল্প বয়সে চুল পাকার জন্য দায়ী হতে পারে। তাই সন্দেহ হলে লিভারের পরীক্ষা করানো জরুরি।
তবে কি চুলের হারানো রং ফিরিয়ে আনা সম্ভব? সঠিক যত্ন ও পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে চুল পাকার গতি ধীর করা সম্ভব হলেও, সবার ক্ষেত্রে এটি কাজ নাও করতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক উপাদান যেমন হেনা বা ভেষজ রঙের সাহায্যে চুলের পাকা অংশ ঢেকে দেওয়া যেতে পারে।